জাতীয়

মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হবে : মুখ্য সচিব

নগর খবর ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে উত্তরপত্র মূল্যায়নসহ প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। ইতোমধ্যে সব মহলে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশংসিত হয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় এ নিয়োগ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, সমৃদ্ধ স্বদেশ সৃষ্টি করতে এবং আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক তৈরি করতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করতে হবে। এ জন্য শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে, কারণ শ্রেণিকক্ষে জাতি গঠন হয়, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় শ্রেণিকক্ষে। আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক তৈরির প্ল্যাটফর্ম শ্রেণিকক্ষ।

 

রোববার বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রণীত ইন্টারগ্রেটেড প্রাইমারি এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ও রাজধানীর ৬টি দৃষ্টিনন্দন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহাম্মদ বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৪ হাজার মাল্টিমিডিয়া সরবরাহ এবং ২৪ হাজার ল্যাপটপ বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াই-ফাই সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, সূতিভোলা খালে নৌপথ চালুর যে পরিকল্পনা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নিয়েছে সেটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা করবে ঢাকা ওয়াসা।

রোববার (২৪ ডিসেম্বর) গুলশানের ডিএনসিসির প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ডিএনসিসির আওতাধীন খালসমূহের সীমানা নির্ধারণ, পরিবেশ উন্নয়ন এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মিজানুর রহমান বলেন, আমরা ঢাকা ওয়াসা থেকে একটি প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছি। মাদানি অ্যাভিনিউ এলাকার সূতিভোলা খালে নৌপথ চালুর যে পরিকল্পনা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নিয়েছে সেটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব এবং সার্বিক সহযোগিতা করব।

এসময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম খালের সীমানা নির্ধারণ ও খালের পরিবেশ রক্ষায় করণীয় ঠিক করতে সব সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন।

সভায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান কামরুন নাহার আহমেদ বলেন, ঢাকার প্রকৃত খাল উদ্ধার করতে হলে সিএস দাগ অনুযায়ী খাল উদ্ধার করতে হবে। নদী ও খালের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোনো প্রকল্প গ্রহণ করার আগে অবশ্যই জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। খাল ও নদী দূষণ রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুজিবুর রহমান বলেন, ঢাকা শহরের জন্য ন্যাচার বেজড সলিউশন খুবই দরকার। খালের প্রশস্ততা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে বর্ষায় পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। বর্ষার পানির প্রবাহ কতটুকু পর্যন্ত হয় সেটি বিবেচনায় নিয়েই খালের সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। শহরের যানজট নিরসনে খালগুলোকে উন্নয়ন করে নৌপথ চালু করা প্রয়োজন। আরেকটি বিষয় অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন খালের মধ্যে কোনও সুয়ারেজ সংযোগ না থাকে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, আমরা খাল যতই প্রশস্ত করিনা কেন যদি সলিড ওয়েস্ট খালে ফেলা বন্ধ না হয় তাহলে সুফল পাওয়া যাবে না। তাই আইন প্রয়োগ করে এটি বন্ধ করতে হবে। আর অবশ্যই খালের পাড় দিয়ে ওয়াকওয়ে থাকতে হবে। ওয়াকওয়ে থাকলে খালে ময়লা ফেলার প্রবণতা অনেক কমে যাবে।

সভায় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজার সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ আমিরুল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ড. মাহে আলম, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্লানার্সের (বিআইপি) সভাপতি মো. ফজলে রেজা সুমন, বেলার প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. মুজাফফর ফয়সাল, নোঙ্গরের সভাপতি সুমন শামসসহ অন্যান্যরা।

সূতিভোলা খালে ডিএনসিসির নৌপথ চালুতে সহযোগিতা করবে ঢাকা ওয়াসা

Back to top button