জাতীয়

সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে : আহসান হাবিব

নগর খবর ডেস্ক : নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান (অব.) বলেছেন, সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সমান গুরুত্ব দিতে করতে হবে। যেকোনো মূল্যে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইন ও বিধির আলোকে যেখানে যা করণীয় সেটি তাৎক্ষণিকভাবে করতে হবে।

শনিবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সকল রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ সবাইকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে জোরালো ভাবে প্রতিপালন করতে হবে।

সেগুলো হলো—

১. সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। যেকোনো মূল্যে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে আইন ও বিধির আলোকে যেখানে যা করণীয় তা করতে হবে। এ জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, তা নিতে হবে এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আপনাদের সামর্থ্যের সর্বশক্তি কোনো কালক্ষেপণ ছাড়াই প্রয়োগ করতে হবে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে রকম শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটারদের কেউ যদি বাধা দেয় সেই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। বাধাদানকারী ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না।

২. সব দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টকে ভোট কক্ষে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও প্রয়োগকারী সকল সংস্থার সমন্বয়ে এমন পরিবেশ সৃষ্টি ও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটাররা বিশ্বাস করেন যে, প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

৩. ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। ভোটগ্রহণ কালে উদ্ভূত যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেমন- জালভোট, প্রক্সিভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাই ইত্যাদি বা সৃষ্ট বাধা-বিপত্তি বা বিভিন্ন অপচেষ্টা বা চ্যালেঞ্জ নিয়ন্ত্রণের আওতার বাইরে চলে গেলে ভোটকেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করতে হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যত সংখ্যক কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করা প্রয়োজন তত সংখ্যক কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন প্রকার শৈথিল্য মনোভাব দেখানো করা যাবে না। কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধের বিষয়টি ও সার্বিক কেন্দ্র পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনকে অবহিত করতে হবে।

৫. পক্ষপাতমূলক আচরণ বা কার্যকলাপের ঊর্ধ্বে নিজেদেরকে রাখতে হবে। ব্যত্যয় হলে অবশ্যই এর দায়ভার সংশ্লিষ্টদের উপর বর্তাবে।

৬. কোনো প্রার্থী আচরণবিধি ভঙ্গ বা নির্বাচনী অপরাধ করলে তাৎক্ষণিকভাবে উপযুক্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কেন্দ্রের আশপাশের প্রার্থীর কর্মীরা আচরণবিধি ভঙ্গ করলে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭. ভোট গ্রহণ শেষে পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা কার্যক্রম চলবে। সে সময়ে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন। গণনা শেষে ফলাফল সিটে পোলিং এজেন্ট এর স্বাক্ষর নিজে এক কপি তাদের দিতে হবে।

৮. অনিয়মের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের অভিযোগ উত্থাপিত হলে কমিশন সে ভোটের ফলাফল গেজেট না করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে কমিশন কর্তৃক উক্ত ভোট বাতিল করা হবে। সেক্ষেত্রে কমিশন পুনরায় ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করবে এবং দায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৯. কোনো গুজবে দ্বিধাগ্রস্ত হবেন না। যদি কোনো গুজব বা বার্তা বা সংবাদ আপনাদের নিকট গুরুত্বারোপযোগ্য মনে হয় সে ক্ষত্রে দ্বিধাহীন চিত্তে ও নিঃসংকোচে আমাকে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করবেন। প্রয়োজনে মেসেজ প্রেরণ করবেন।

১০. মনে রাখতে হবে, শেষ মুহূর্তের মেসেজ, আগের রাতের মেসেজ, চূড়ান্ত মেসেজ ইত্যাদি বলতে কিছু নেই৷ এই বার্তাই সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য একমাত্র ও চূড়ান্ত বার্তা। অন্য বা ভিন্ন কোন মেসেজ আমলে নেবেন না। ব্যতিক্রম কিছু পরিলক্ষিত হলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন।

১১. নির্বাচনী আইন, সংশ্লিষ্ট নীতিমালা এবং কমিশন থেকে দেওয়া প্রশিক্ষণে সাংবাদিকদের আচরণ ও তাদের কার্যক্রমের ব্যাপারে যে নির্দেশনা আছে তা অনুসরণ করবেন। ভোটকেন্দ্র বা তার আশপাশে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক সহ বিভিন্ন এজেন্সি, ইউটিউবার, ফেসবুক, সোশ্যাল মিডিয়ার ক্যামেরা এবং সাধারণ ভোটারদের কাছেও অসংখ্য মোবাইল ফোন ক্যামেরাও থাকবে। তাই বিষয়টি দৃষ্টিতে রেখে আপনাদের সংযত থাকতে হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাঁদের সদস্যদের অধিকতর সতর্ক থাকতে বলবেন।

১২. আপনাদের অধীন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাগণকে উপরিউক্ত মেসেজ টি ফরোয়ার্ড করাসহ নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করা হলো ।

১৩. আমি আশা করি, আপনারা আপনাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সমর্থ হবেন।

Back to top button