নড়াইলে সূর্যমুখী চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন


নড়াইলের কৃষকরা দিন দিন সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন, যা কম খরচে অধিক ফলন ও লাভের সম্ভাবনা তৈরি করছে। ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিকল্প চাষ পদ্ধতির দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছেন তারা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, এই চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
সদর উপজেলার তুলারামপুর চাঁচড়া মাঠে বিস্তীর্ণ হলুদ সূর্যমুখী খেত চোখে পড়ছে। এই মাঠে প্রতিদিন বিকেলে তরুণ-তরুণীরা সেলফি তুলতে ভিড় করছেন।
মিতনা গ্রামের কৃষক রসময় বিশ্বাস ৭০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন এবং তার ফলন খুব ভালো হয়েছে। তিনি জানান, সরিষার তুলনায় সূর্যমুখী চাষে তিনগুণ লাভ হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে তেল ভাঙানোর সুবিধা থাকায় তিনি নিজের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করতে পারছেন।
অন্য কৃষক বিল্লাল মোল্যা জানান, তিনি ৩৫ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ভালো ফলনের আশা করছেন। গোতম বিশ্বাস বলেন, গত বছর ২৫ শতক জমিতে চাষ করে লাভ হওয়ায় এ বছর ৪০ শতক জমিতে চাষ করেছেন। তিনি জানান, বিঘাপ্রতি ১৩ থেকে ১৭ হাজার টাকা খরচ হয় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন ভালো হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর জেলায় ১১০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ২৫৬ মেট্রিকটন। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হচ্ছে এবং প্রকল্পের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা এখন সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।