সাত দিনের জন্য শুরু হয়ে গেল জনশুমারি ও গৃহগণনার কার্যক্রম

সাত দিনের জন্য শুরু হয়ে গেল জনশুমারি ও গৃহগণনার কার্যক্রম

  ১৫ জুন ২০২২

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার লক্ষে সারাদেশের মত নগরীতে ট্যাবের মাধ্যমে জনশুমারি ও গৃহগণনার তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে বুধবার (১৫ জুন) সকালে“জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২” এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র এ. এইচ. এম খায়রুজ্জামান লিটন।

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২২ এর তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনার কার্যক্রম ৭ দিন অনুষ্ঠিত হবে। যা বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ২১ জুন পর্যন্ত চলবে। তথ্য সরবরাহের কাজে রাজশাহী বিভাগের ডিসিসি হিসেবে থাকছেন ২০ জন, রাজশাহী জেলায় ৩ জন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১ জন থাকছেন। ইউসিসি হিসেবে রাজশাহী বিভাগে ৬৮ জন, রাজশাহী জেলায় ৯ জুন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১ জন থাকছেন। জোনাল অফিসারের দায়িত্বে রাজশাহী বিভাগে ৫০৯ জন এবং রাজশাহী জেলায় ৭৪ জন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১২ জন কাজ করছেন। তাদের আওতায় সুপারভাইজার হিসেবে রাজশাহী বিভাগে ৮ হাজার ৫৩৭ জন, রাজশাহী জেলায় ১ হাজার ১৯৭ জন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ২১১ জন কাজ করছেন। তথ্য সংগ্রহকারী কর্মী হিসেবে রাজশাহী বিভাগে ৪৯ হাজার ১২৬ জন, রাজশাহী জেলায় ৭ হাজার ৮৩ জন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১ হাজার ২১৭ জন কর্মীরা তথ্য সংগ্রহ করছেন।

সরেজমিনে, নগরীতে কর্মরত জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মর্কতা সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৪ জুন দিবাগত রাত ১২ টা’কে শুমারি মুহূর্ত ধরা হয়েছে। এসময় বাংলাদেশে অবস্থানরত সকল দেশি ও বিদেশি নাগরিক এবং ছয় মাসের কম সময়ের জন্য সাময়িকভাবে বিদেশে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশি নাগরিকে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকা ২৬ নং ওয়ার্ডে কর্মরত জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মর্কতাদের সাথে। জনশুমারি ও গৃহগণনায় কর্মী হিসেবে কাজ করছেন রুবেল পারভেজ। তিনি বলেন, আমাকে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় আজ কাজ করছি। যাকে বলা হচ্ছে সুপারভাইজার এলাকা নম্বর ১ এবং গণনা এলাকা ২ । নির্ধারিত এলাকা ছাড়া আমরা খানা বা গৃহ গণনা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ২০ থেকে ৩০ টি খানা গণনার লক্ষ্য ছিল আজ।

গৃহপরিচালিকা শিল্পী নামের একজন বলেন, কে কে বাসায় খায় সেগুলো গুনছেন। বাসা ভাড়া বাড়ি না নিজস্ব বাড়ি তাও জেনে নিচ্ছেন। আমার বয়স বলতে হয়নি। আমার তথ্য দিতেই তাদের ট্যাবে সব চলে আসছে। ভালো লাগলো।

কোন প্রকারের সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে নামো ভদ্রা ১ এর সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্বরত আশিফুজ্জামান জানান, প্রতিটা এলাকায় জনশুমারি ও গৃহগণনার কথা প্রচার হলেও তাদের আওতায় যারা কাজ করছেন তারা অনেক সময় সমস্যায় পড়ছেন। যেমন, কোন বাসায় গেলে বাসার মালিক থাকছেন না। বাসার মালিক থাকলেও তাদের দেয়া সুবিধামত সময় বেঁধে দিচ্ছেন। অনেকে তথ্য দিতে রাজিও হচ্ছেন না। অনেক বা-বাড়ির মালিক ভয় পাচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, বাসা বাড়ির মালিকদের বোঝাতে সময় লাগছে। অনেকে জনশুমারির কথা শোনেননি। কেউ কেউ ভাবছেন ভোট নেয়া হচ্ছে। এগুলো ছাড়া তেমন কোন সমস্যা নেই।

জনশুমারি ও গৃহগণনার জোন ১০ এর জোনাল অফিসার ওসমান গণি জানান, সুষ্ঠভাবে কাজ পরিচালনা করার চেষ্টা অবিরত থাকছে। স্বতস্ফূর্তভাবে বেশির ভাগ নাগরিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করছেন।

পদ্মা আবাসিক এলাকায় তথ্য প্রদান কারী নাজিম উদ্দিন (৭৮) জানান, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী এবং বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশী নাগরিকগণের তথ্যও এবারের শুমারিতে সংগ্রহ করা হচ্ছে। জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানা বেষ্টিত অঞ্চলের সকল গৃহ, সাধারণ, প্রাতিষ্ঠানিক ও বস্তিখানা, ভাসমান জনগোষ্ঠী, খানায় বসবাসরত সকল সদস্যের জনতাত্ত্বিক ও আর্থ-সামাজিক তথ্য, যেমন- গৃহের সংখ্যা ও ধরন, বাসস্থানের মালিকানা, খাবার পানির প্রধান উৎস, টয়লেটের সুবিধা, বিদ্যুৎ সুবিধা, রান্নার জ্বালানির প্রধান উৎস, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বৈদেশিক রেমিট্যান্স, খানা সদস্যদের বয়স, লিঙ্গ, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, প্রতিবন্ধিতা, শিক্ষা, কর্ম, প্রশিক্ষণ, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার, ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, জাতীয়তা, নিজ জেলা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *