ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম :
Fascinating dynamics and crazy time casino experiences redefine modern online gaming platforms Curiosità online e bonus esclusivi con https://ringospinsit.it per unesperienza di gioco senza precedenti Große Auswahl spannender Spielautomaten bei https://monsterwins-de.de und lukrative Bonusangebote entdecken পলাতক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বিবাহ বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নিয়ে নতুন আশার কথা, শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত রাজশাহীর ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছেঃ রাসিক প্রশাসক শরতের কাশফুলে নওদাপাড়া, দর্শনার্থীদের ভিড় শাপলা সৃজনমঞ্চ নজরুল উৎসব-১৪৩৩ এর উদ্বোধন করলেন রাসিক প্রশাসক দালাল আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ফারিয়ার মানববন্ধন, স্মারকলিপির পর তিনজনের জামিন রাজশাহীর উদ্যোক্তা” আয়োজিত ‘শরৎ উৎসব ও মেলা’র সমাপনী অনুষ্ঠান

বাগমারায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ডিশ ব্যবসা দখলের অভিযোগে ভুক্তভোগী নারীর সংবাদ সম্মেলন

  • নগর ডেস্কঃ
  • আপডেট সময়: ০৯:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ১১০ টাইম ভিউ

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক অসহায় নারীর বৈধ ডিশ সংযোগ ও কোটি টাকার ক্যাবল লাইন জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের জড়িয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও মূল ঘটনা আড়াল করার অপচেষ্টা বলে দাবি করেছে ওই ভুক্তভোগী নারী।

​শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ২ টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী নারী মোসা. ফাইমা খাতুন। তিনি গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের মৃত মোহাম্মদ আলীর কন্যা।

সংবাদ সম্মেলনে তাঁর প্রতি সমর্থন ও সংহতি জানিয়েছেন নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম এবং হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফাইমা খাতুন জানান, ২০১০ সাল থেকে তাঁর স্বামী শাহ মো. শরিফুল ইসলাম রাজু বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দি, পলাশী, চন্দ্রপুর, উদপাড়া, ডাংগাপাড়া ও রায়পুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিশ ব্যবসা গড়ে তোলেন। সরকারি সমস্ত লাইসেন্স ও নিয়মিত ট্যাক্স-খাজনা দিয়ে তারা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
​কিন্তু ২০২১ সালে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুবলীগ নেতা ইমন হামলা চালিয়ে মেশিন ও তার কেড়ে নেয় এবং আমাকে এবং আমার সন্তানদের প্রচণ্ড মারধর করে। এই ঘটনার পর তীব্র মানসিক আঘাতে আমার স্বামী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর সন্তানদের রিযিকের তাগিদে আমি একাই এই ব্যবসার হাল ধরি এবং দীর্ঘদিন লড়াই করে কিছু এলাকা উদ্ধার করি।
​ফাইমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতনের পর গোয়ালকান্দি এলাকার যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম নতুন করে ডিশ লাইন ও ব্যবসাটি জোরপূর্বক দখল করে নেন। ব্যবসা ফেরত পাওয়ার জন্য তিনি স্থানীয় বাগমারা থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী, ইউএনও, পুলিশ সুপার এবং বিটিভি কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও কোনো ফল হয়নি। এমনকি বাগমারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দ্বারস্থ হলেও আসাদুল কারও কথা তোয়াক্কা করেননি। উল্টো আসাদুল অহংকার করে বলেন, “বাগমারার কোন নেতা কেন, তারেক রহমান নিজে এসেও যদি ডিশ ছাড়তে বলে তাও আমি ছাড়বো না।”
​
​লিখিত বক্তব্যে ফাইমা খাতুন আরো জানান, সব শেষ উপায় হিসেবে কিছুদিন আগে বাগমারা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে বিচার চাইলে তারা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম হঠাৎ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্দেশ্যে তার চেম্বারে আমাকে ডেকে পাঠান। আসাদুলের অফিসে একা যেতে ভয় পাওয়ায় আমি নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম এবং হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমনের সাহায্য চান এবং তাদের সাথে নিয়ে আসাদুলের ব্যবসা প্রতিস্থানে যাই।
​ফাইমা খাতুনের দাবি, আলোচনার একপর্যায়ে আসাদুল ইসলাম পূর্বপরিকল্পিতভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং বলেন, “হামিরকুৎসা ডিশ ভালোভাবে চালাতে চাইলে এই ডিশ ভুলে যান… বেশি বাড়াবাড়ি করলে কোন লাইনই আপনার থাকবে না।” এর প্রতিবাদ করলে আসাদুল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।এক পর্যায়ে আমার গলার চেইন ও ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া করেন, চুল ধরে টানেন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এই অবস্থা দেখে উপস্থিত ছাত্রদল নেতারা আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আসাদুল নিজের অপরাধ ঢাকতে নিজেই নিজের গায় আঘাত করে ও গলার কাছে কাঁচের টুকরা ধরে মিথ্যা নাটক সাজান এবং গণমাধ্যমে ভাঙচুর ও লুটপাটের কাল্পনিক খবর প্রচার করেন। তিনি বলেন, ভাঙচুর-লুটপাটের খবর সঠিক নয়। সংবাদে যে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মূলত একজন অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানোয় এবং যুবদল নেতার ডিশ ব্যবসা দখলের মূল ঘটনাটি আড়াল করতেই ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

​ভুক্তভোগী ফাইমা খাতুন এবং ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কাছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে আসাদুলকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। বিধায় বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই বলতে পারবো না।

টপিক

Fascinating dynamics and crazy time casino experiences redefine modern online gaming platforms

বাগমারায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ডিশ ব্যবসা দখলের অভিযোগে ভুক্তভোগী নারীর সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময়: ০৯:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক অসহায় নারীর বৈধ ডিশ সংযোগ ও কোটি টাকার ক্যাবল লাইন জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের জড়িয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও মূল ঘটনা আড়াল করার অপচেষ্টা বলে দাবি করেছে ওই ভুক্তভোগী নারী।

​শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ২ টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী নারী মোসা. ফাইমা খাতুন। তিনি গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের মৃত মোহাম্মদ আলীর কন্যা।

সংবাদ সম্মেলনে তাঁর প্রতি সমর্থন ও সংহতি জানিয়েছেন নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম এবং হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফাইমা খাতুন জানান, ২০১০ সাল থেকে তাঁর স্বামী শাহ মো. শরিফুল ইসলাম রাজু বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দি, পলাশী, চন্দ্রপুর, উদপাড়া, ডাংগাপাড়া ও রায়পুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিশ ব্যবসা গড়ে তোলেন। সরকারি সমস্ত লাইসেন্স ও নিয়মিত ট্যাক্স-খাজনা দিয়ে তারা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
​কিন্তু ২০২১ সালে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুবলীগ নেতা ইমন হামলা চালিয়ে মেশিন ও তার কেড়ে নেয় এবং আমাকে এবং আমার সন্তানদের প্রচণ্ড মারধর করে। এই ঘটনার পর তীব্র মানসিক আঘাতে আমার স্বামী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর সন্তানদের রিযিকের তাগিদে আমি একাই এই ব্যবসার হাল ধরি এবং দীর্ঘদিন লড়াই করে কিছু এলাকা উদ্ধার করি।
​ফাইমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতনের পর গোয়ালকান্দি এলাকার যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম নতুন করে ডিশ লাইন ও ব্যবসাটি জোরপূর্বক দখল করে নেন। ব্যবসা ফেরত পাওয়ার জন্য তিনি স্থানীয় বাগমারা থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী, ইউএনও, পুলিশ সুপার এবং বিটিভি কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও কোনো ফল হয়নি। এমনকি বাগমারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দ্বারস্থ হলেও আসাদুল কারও কথা তোয়াক্কা করেননি। উল্টো আসাদুল অহংকার করে বলেন, “বাগমারার কোন নেতা কেন, তারেক রহমান নিজে এসেও যদি ডিশ ছাড়তে বলে তাও আমি ছাড়বো না।”
​
​লিখিত বক্তব্যে ফাইমা খাতুন আরো জানান, সব শেষ উপায় হিসেবে কিছুদিন আগে বাগমারা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে বিচার চাইলে তারা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম হঠাৎ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্দেশ্যে তার চেম্বারে আমাকে ডেকে পাঠান। আসাদুলের অফিসে একা যেতে ভয় পাওয়ায় আমি নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম এবং হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমনের সাহায্য চান এবং তাদের সাথে নিয়ে আসাদুলের ব্যবসা প্রতিস্থানে যাই।
​ফাইমা খাতুনের দাবি, আলোচনার একপর্যায়ে আসাদুল ইসলাম পূর্বপরিকল্পিতভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং বলেন, “হামিরকুৎসা ডিশ ভালোভাবে চালাতে চাইলে এই ডিশ ভুলে যান… বেশি বাড়াবাড়ি করলে কোন লাইনই আপনার থাকবে না।” এর প্রতিবাদ করলে আসাদুল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।এক পর্যায়ে আমার গলার চেইন ও ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া করেন, চুল ধরে টানেন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এই অবস্থা দেখে উপস্থিত ছাত্রদল নেতারা আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আসাদুল নিজের অপরাধ ঢাকতে নিজেই নিজের গায় আঘাত করে ও গলার কাছে কাঁচের টুকরা ধরে মিথ্যা নাটক সাজান এবং গণমাধ্যমে ভাঙচুর ও লুটপাটের কাল্পনিক খবর প্রচার করেন। তিনি বলেন, ভাঙচুর-লুটপাটের খবর সঠিক নয়। সংবাদে যে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মূলত একজন অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানোয় এবং যুবদল নেতার ডিশ ব্যবসা দখলের মূল ঘটনাটি আড়াল করতেই ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

​ভুক্তভোগী ফাইমা খাতুন এবং ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কাছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে আসাদুলকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। বিধায় বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই বলতে পারবো না।