ইরান সংঘাতে ন্যাটোকে ‘খারাপ ভবিষ্যতের’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
- আপডেট সময়: ০৩:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
- / ২২ টাইম ভিউ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সতর্কবার্তা জারি করেন।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে এবং চলমান সামরিক অভিযানে মিত্ররা যদি যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যাপ্ত সহায়তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে ন্যাটোর সামনে ‘খুবই খারাপ ভবিষ্যৎ’ অপেক্ষা করছে। ন্যাটোর কার্যক্রমকে তিনি ‘একমুখী রাস্তা’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় মিত্রদের পাশে থাকলেও প্রয়োজনের সময় মিত্ররা তাদের সঙ্গ দিচ্ছে না।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে মিত্রদের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার মাইল দূরে হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকানরা সেখানে উদারভাবে সহায়তা পাঠিয়েছে, যা আসলে তাদের করার প্রয়োজন ছিল না। এখন ইরানের বিপদজনক সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের লড়াইয়ে মিত্ররা একই রকম সহযোগিতা করবে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। মিত্রদের কাছ থেকে কী ধরনের সাহায্য প্রত্যাশা করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘যা কিছু প্রয়োজন’ তার সবই শর্তহীনভাবে দিতে হবে।
সাক্ষাৎকারে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্যের প্রতিও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যকে এক নম্বর মিত্র বিবেচনা করা হলেও যুদ্ধে যোগ দিতে আহ্বান জানালে তারা তৎপরতা দেখায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের সক্ষমতা প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার পরই ব্রিটেন দুটি জাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই বিলম্বিত প্রস্তাবকে উপহাস করে তিনি বলেন, যুদ্ধে জেতার আগে তার সাহায্যের প্রয়োজন ছিল, জেতার পরে নয়। মিত্রদের এমন গড়িমসি ন্যাটোর কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বলে তিনি মনে করেন।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টির নতুন কৌশলের কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। এই লক্ষ্যে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। তার যুক্তি হলো, চীন ও অন্যান্য দেশ যেহেতু এই জলপথের বড় সুবিধাভোগী, তাই পথটি নিরাপদ রাখার দায়িত্ব তাদেরও নিতে হবে। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

















