শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৈরি করা তালিকার ভিত্তিতে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে না। তিনি বলেন, পূর্বের তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে এবং নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর পুরনো ও নতুন সব আবেদন একসঙ্গে মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হবে।
সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ৬৭০ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে দ্রুত এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেখানে অনিয়ম ও লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়।
নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪৭১টি নিম্ন-মাধ্যমিক, ৬২৩টি মাধ্যমিক, ১০৫টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৪৫টি কলেজ। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষায় ৭৮টি দাখিল, ২০২টি আলিম এবং ৩৫টি ফাজিল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, সারাদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরে শিক্ষার বিস্তার ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এমপিওভুক্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত হয় এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
তিনি বলেন, নতুন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক। তবে শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষার ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা এবং ভৌগোলিক প্রয়োজনীয়তার মতো নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলেই কেবল প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য বিবেচিত হবে।
সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব শর্ত পূরণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।











