ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম :
রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনকে অভিনন্দন জানাল ‘নগর খবর’ পরিবার রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন মিজানুর রহমান মিনুর পূজা চেরীর নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত, সংসারের জন্য অভিনয় ছাড়ার কথাও বললেন বইমেলায় ঝড়ো বৃষ্টির আঘাত: লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি, স্টলগুলো ছিন্নভিন্ন ম্যানেজিং কমিটিতে অর্ধশিক্ষিত নয়, শিক্ষানুরাগীদের প্রাধান্য: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাসপাতালে দেখা, মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার নির্দেশ বিশ্ব ঘুম দিবস আজ: ‘ভালো ঘুমাও, ভালোভাবে বাঁচো’ রাজশাহীর আবহাওয়া: বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, তাপমাত্রা কমতে পারে অষ্টম এনটিআরসায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার সিলেবাস প্রকাশ প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বক উজ্জ্বল ও পরিষ্কার রাখার ঘরোয়া টিপস

বইমেলায় ঝড়ো বৃষ্টির আঘাত: লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি, স্টলগুলো ছিন্নভিন্ন

নগর ডেস্কঃ
  • আপডেট সময়: ০৩:৫৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • / ১২ টাইম ভিউ

ফাল্গুনের আকাশে গুমোট আবহাওয়ার ভয়াবহতা রাত ৮টার দিকে প্রকাশ পায়। হঠাৎ নেমে আসা প্রবল ঝড়ো বৃষ্টিতে একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ হয়ে যায় ছারখার। মুহূর্তেই পাঠক-দর্শনার্থীরা নিরাপদ স্থানের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন, আর স্টলের বিক্রয়কর্মীরা জলদগতিতে বইগুলো পলিথিনে মুড়তে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। বই রক্ষার চেষ্টায় অনেক স্টলই ভিজে যায় সম্পূর্ণভাবে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা মেলায় শেষ এক ঘণ্টায় আবহাওয়া হঠাৎ বদলে যায়। কালবৈশাখীর মতো দমকা হাওয়া ও ঝুম বৃষ্টির সঙ্গে কয়েকবার ছোট-বড় শিলাও নামে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে।

বৃষ্টির তীব্রতা কমতেই মেলা প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেখা যায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। কেউ স্টলগুলো ঠিকঠাক করছেন, কেউ ভেজা বই মুছে শুকিয়ে রাখার চেষ্টায় ব্যস্ত। আহসান পাবলিকেশন্সের মালিক মো. ফয়সাল বলেন, “এই বৃষ্টিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার বই নষ্ট হয়েছে। আগুন বা পানিতে ভিজলে বই আর ঠিক হয় না। এবার মেলায় বিক্রি কম ছিল, তার ওপর এই ক্ষতি।”

আগের মেলায় এমন ঝড়ের অভিজ্ঞতা না থাকায় ফয়সাল বলেন, “আগে হালকা বৃষ্টি হতো, কিন্তু ঝড়ের সঙ্গে নয়। শেষের দিকের স্টলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এখন যতটা পারছি ভেজা বই শুকিয়ে সাজাচ্ছি।”

পথিক প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী বেলাল হোসেন জানান, “পূর্বাহে প্রস্তুতি নিয়ে রাখায় বইগুলো বেঁচেছে, তবে স্টলের ভিতরে কিছু পানি ঢুকেছিল।” অন্যদিকে আগামী প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, “সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও পানি ঢোকা রোধ করতে পারিনি। অনেক বই নষ্ট হয়েছে।”

রাত ৯টার পর বৃষ্টি থামলে মেলা প্রাঙ্গণে পানির জলাজমি দেখা যায় স্টলগুলোর সামনে। বইবিক্রি প্রায় বন্ধ থাকলেও হকাররা ছাড়েননি—তারা আশ্রয় নেওয়া ভিড়ের মধ্যে ঝালমুড়ি, চকলেট কিন্তু বিভিন্ন খাবার বিক্রি করে বেড়ান। সড়কের অস্থায়ী দোকানগুলো মেট্রোর পিলারের নিচে সরিয়ে নেওয়া হয়, সেখানে ব্যবসা চলতেই থাকে এবং মেলার আড্ডাও সেখানে স্থানান্তরিত হয়।

প্রসঙ্গত, ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু অমর একুশে বইমেলা ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা, ছুটির দিন সকাল ১১টা থেকে। রাত ৮:৩০টার পর নতুন প্রবেশ নিষিদ্ধ। এবার ৫৪৯ প্রকাশনা, ১০১৮ ইউনিট—বাংলা একাডেমিতে ৮১, সোহরাওয়ার্দীতে ৪৬৮।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বইমেলায় ঝড়ো বৃষ্টির আঘাত: লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি, স্টলগুলো ছিন্নভিন্ন

আপডেট সময়: ০৩:৫৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ফাল্গুনের আকাশে গুমোট আবহাওয়ার ভয়াবহতা রাত ৮টার দিকে প্রকাশ পায়। হঠাৎ নেমে আসা প্রবল ঝড়ো বৃষ্টিতে একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ হয়ে যায় ছারখার। মুহূর্তেই পাঠক-দর্শনার্থীরা নিরাপদ স্থানের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন, আর স্টলের বিক্রয়কর্মীরা জলদগতিতে বইগুলো পলিথিনে মুড়তে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। বই রক্ষার চেষ্টায় অনেক স্টলই ভিজে যায় সম্পূর্ণভাবে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা মেলায় শেষ এক ঘণ্টায় আবহাওয়া হঠাৎ বদলে যায়। কালবৈশাখীর মতো দমকা হাওয়া ও ঝুম বৃষ্টির সঙ্গে কয়েকবার ছোট-বড় শিলাও নামে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে।

বৃষ্টির তীব্রতা কমতেই মেলা প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেখা যায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। কেউ স্টলগুলো ঠিকঠাক করছেন, কেউ ভেজা বই মুছে শুকিয়ে রাখার চেষ্টায় ব্যস্ত। আহসান পাবলিকেশন্সের মালিক মো. ফয়সাল বলেন, “এই বৃষ্টিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার বই নষ্ট হয়েছে। আগুন বা পানিতে ভিজলে বই আর ঠিক হয় না। এবার মেলায় বিক্রি কম ছিল, তার ওপর এই ক্ষতি।”

আগের মেলায় এমন ঝড়ের অভিজ্ঞতা না থাকায় ফয়সাল বলেন, “আগে হালকা বৃষ্টি হতো, কিন্তু ঝড়ের সঙ্গে নয়। শেষের দিকের স্টলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এখন যতটা পারছি ভেজা বই শুকিয়ে সাজাচ্ছি।”

পথিক প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী বেলাল হোসেন জানান, “পূর্বাহে প্রস্তুতি নিয়ে রাখায় বইগুলো বেঁচেছে, তবে স্টলের ভিতরে কিছু পানি ঢুকেছিল।” অন্যদিকে আগামী প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, “সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও পানি ঢোকা রোধ করতে পারিনি। অনেক বই নষ্ট হয়েছে।”

রাত ৯টার পর বৃষ্টি থামলে মেলা প্রাঙ্গণে পানির জলাজমি দেখা যায় স্টলগুলোর সামনে। বইবিক্রি প্রায় বন্ধ থাকলেও হকাররা ছাড়েননি—তারা আশ্রয় নেওয়া ভিড়ের মধ্যে ঝালমুড়ি, চকলেট কিন্তু বিভিন্ন খাবার বিক্রি করে বেড়ান। সড়কের অস্থায়ী দোকানগুলো মেট্রোর পিলারের নিচে সরিয়ে নেওয়া হয়, সেখানে ব্যবসা চলতেই থাকে এবং মেলার আড্ডাও সেখানে স্থানান্তরিত হয়।

প্রসঙ্গত, ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু অমর একুশে বইমেলা ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা, ছুটির দিন সকাল ১১টা থেকে। রাত ৮:৩০টার পর নতুন প্রবেশ নিষিদ্ধ। এবার ৫৪৯ প্রকাশনা, ১০১৮ ইউনিট—বাংলা একাডেমিতে ৮১, সোহরাওয়ার্দীতে ৪৬৮।